দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে আফগানিস্তান। শুক্রবার (১৯ জুন) আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগের রাতে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যকার নাজুক যুদ্ধবিরতি নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে অবস্থিত কয়েকটি ঘাঁটিতে বিমান বাহিনী হামলা চালিয়েছে। আফগানিস্তানের দাবি, এসব স্থাপনা আইএস-খোরাসান (আইএসআইএস-কে) এবং ‘বৈরী গোয়েন্দা চক্রের’ সহযোগিতায় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয়ে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
কাবুলের দাবি, হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর একটি ছিল আইএস-খোরাসানের শীর্ষ নেতাদের নিয়মিত ব্যবহৃত একটি স্থাপনা। প্রাথমিক তথ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানার কথাও জানিয়েছে আফগান কর্তৃপক্ষ।
তবে পাকিস্তান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে আফগানিস্তানের বক্তব্যকে ‘মিথ্যা ও অপপ্রচার’ বলে উল্লেখ করেছে।
পাকিস্তানের দাবি, আইএসসহ দুই ডজনের বেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের ঘাঁটি আফগান তালেবান নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল থেকেই পরিচালিত হচ্ছে।
২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে। তবে কাবুল বরাবরই সেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
আফগানিস্তান এই হামলা কীভাবে পরিচালনা করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। যদিও দেশটির কাছে যুদ্ধবিমান নেই, তবে আন্তর্জাতিক কৌশলগত গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানের অন্তত ছয়টি উড়োজাহাজ, ২৩টি হেলিকপ্টার এবং কিছু ড্রোন রয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাবে আফগানিস্তান পাল্টা সীমান্ত অভিযান চালানোর পর দুই দেশের সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। পরে মার্চে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও পারস্পরিক অভিযোগের মধ্যে সেটি ভেঙে পড়ে। চীনের মধ্যস্থতায় উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে সীমান্ত সংঘাতে অন্তত ৩৭২ আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও ৩৯৭ জন আহত হয়েছেন।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছিলেন বলে দাবি করে আফগান তালেবান। নিহতদের মধ্যে ১১ জনই শিশু ছিল বলে জানানো হয়। অন্যদিকে পাকিস্তান বলেছে, ওই ‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক হামলায়’ ২৬ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘আফগানিস্তান আর তার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে কোনো হুমকি মেনে নেবে না। উৎসস্থল থেকেই সব ধরনের হুমকি নির্মূল করতে প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা ব্যবহার করা হবে।’
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/